রংপুর মিঠাপুকুরে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার, লাইসেন্সবিহীন চেম্বার খুলে অবৈধ চিকিৎসা প্রদান এবং সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করার অভিযোগে এক ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত ২ জুন মিঠাপুকুর থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন ‘জাতীয় আধুনিক সংবাদ’ পত্রিকার রিপোর্টার মো: বিপ্লব মিয়া।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো: জিয়াউর রহমান। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলার ৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ইসলামপুর বেলবাড়ী গ্রামের মৃত মো: আঃ কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পায়রাবন্দ রোডের ইসলামপুর বেলবাড়ী এলাকায় ‘খুদুনীয়া হেলথ কেয়ার সেন্টার’ নামে একটি বড় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান নিজেকে 'দুর্নীতি তালাশ নিউজ টিভি'র সাংবাদিক এবং একই সাথে একজন বড় ‘মেডিসিন ডাক্তার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তার সাইনবোর্ডে ‘ডাঃ মোঃ ফকির জিয়াউর রহমান (L.M.A.F) মেডিসিন’ লেখা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ডাক্তারি করার মতো কোনো বৈধ প্রাতিষ্ঠানিক সনদ বা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) এর কোনো রেজিস্ট্রেশন তার নেই।
কোনো প্রকার বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে এলাকার সাধারণ মানুষের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি করে আসছেন। এছাড়া গ্রামীণ সরলতার সুযোগ নিয়ে নিজেকে ‘খনার ফকির’ হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন কুফরি ও কবিরাজি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে ‘জাতীয় আধুনিক সংবাদ’ পত্রিকার রিপোর্টার মো: বিপ্লব মিয়ার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করেন এই ভুয়া সাংবাদিক জিয়াউর রহমান। এতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তার পরিবার চরম সামাজিক ও মানসিক হেয় প্রতিপন্নতার শিকার হন।
পরবর্তীতে গত ২ জুন দুপুর আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় পায়রাবন্দ ইউনিয়নের তারাগঞ্জের মোড়ে ভুক্তভোগী বিপ্লব মিয়ার সাথে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানের দেখা হলে, জিয়াউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রকাশ্য দিবালোকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পথ আটকে মারপিট করার চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তিনি বিপ্লব মিয়াকে সাংবাদিকতা করতে না দেওয়া, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মোছা: শিউলী বেগম, মো: ফুয়াদ মিয়া, মো: বকুল মিয়া এবং মো: মোস্তফা কামালসহ স্থানীয় অনেকেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জিয়াউর রহমান দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিকতা ও চিকিৎসার নামে এলাকায় এক ধরণের ‘ভীতি’ তৈরি করে রেখেছেন। তার অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন, কিন্তু মান-সম্মান ও হুমকির ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী বিপ্লব মিয়া জানান, জিয়াউর রহমানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বা গণমাধ্যমের বৈধতা নেই। সে মূলত সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপচিকিৎসার ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।"
মিঠাপুকুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। একজন ভুয়া চিকিৎসক ও ভুয়া সাংবাদিকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যাতে আর প্রতারিত না হয়, সেজন্য দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।