নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের চরম বিপাকে ফেলে হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) মালিকদের একতরফা ও অন্যায়ভাবে আলু সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রংপুর। আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টায় রংপুর শহরের মডার্ন মোড়ে রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মহাসড়কে আলু ছিটিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হিমাগার মালিকরা সিন্ডিকেট করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং একতরফাভাবে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষকরা হাড়ভাঙা খাটুনি করে আলু উৎপাদন করলেও লভ্যাংশের বড় অংশ চুষে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। বর্তমান বাজারে এমনিতেই উৎপাদন খরচ তুলতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর এই বাড়তি ভাড়া যেন "মরার ওপর খাঁড়ার ঘা"। হিমাগার মালিকদের এমন হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে রংপুরের হাজার হাজার প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে।
সমাবেশে উপস্থিত আলু চাষীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, স্বনির্ভর হবে বাংলাদেশ—এই স্লোগান আজ কেবল ব্যানারেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে হিমাগার মালিকদের পকেট ভারী করতেই কৃষকদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই অন্যায় ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।"
এদিকে, ব্যস্ততম মডার্ন মোড় এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে বাস, ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। তীব্র গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও রোগীবাহী রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, হিমাগার মালিকদের এই একতরফা সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং কৃষকদের যৌক্তিক দাবি সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োচিত ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই আজ সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হিমাগার মালিকদের এই স্বেচ্ছাচারিতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এমন ব্যর্থতা বজায় থাকলে আগামীতে আলু চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারাবে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্য বাজারে—এমনটাই মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।