বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
অতিবৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
ভার্চুয়াল সভায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
সব শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
"দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এখানে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে হবে।"
প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দেন।
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।