নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন আরকে রোড নতুন ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যাটারি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক দোকানদারকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানদার মো. রুবেল মিয়া (৩৩) বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া আরকে রোড নতুন ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় ভলকানাইজিং ও ব্যাটারির ব্যবসা পরিচালনা করেন। গত ২১ জুলাই রাতে তার দোকানসংলগ্ন এলাকার বডি মিস্ত্রী মো. রবিউল ইসলামের গ্যারেজ থেকে একটি ব্যাটারি হারিয়ে যায়।
এরই জেরে গত ২৩ জুলাই রাত ১টার দিকে দোকান বন্ধ করে নিজ বাড়ি ফেরার পথে দক্ষিণ বাবুখা গ্রামের লিটনের দোকানের সামনে পৌঁছালে মো. জাহিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি রুবেল মিয়াকে ডেকে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তার কাছে থাকা একটি বাটন মোবাইল ফোন ও নগদ ১৭৫০ টাকা কেড়ে নেন।
পরবর্তীতে রবিউল ইসলামের হুকুমে জাহিদ মিয়া, রতন মিয়াসহ ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে ইটের আদালা দিয়ে তার বুকে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং জাহিদের মাধ্যমে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত রবিউল ও জাহিদ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাদা মাটিতে চেপে ধরে বুকের ওপর জোরেশোরে লাথি মারতে থাকেন।
মারধরের একপর্যায়ে রুবেল মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অভিযুক্তরা তার মাথায় পানি ঢালেন এবং জ্ঞান ফিরে আসলে পুনরায় মারধর শুরু করেন। এ সময় গোঙানির শব্দ পেয়ে স্থানীয় সাক্ষী মো. লিটন মিয়া ও মো. আসাদ মিয়া দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে কাদা-মাটি মাখা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ২টার দিকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
রাতেই হাসপাতালে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় পরদিন সকালে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শেষে তার জেঠাতো ভাই মো. এনামুল হকের মাধ্যমে থানায় অভিযোগ পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, "অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ভুক্তভোগীর দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"