প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৪, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৪, ২০২৬
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ: আহত ১০, থমথমে পরিবেশ
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ডিত কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং জামায়াত নেতাদের ছবি ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ ও ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করাকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানায় ছাত্রদল।
ছাত্রদলের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি টানানোর প্রতিবাদ জানালে তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের দাবি, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রশাসনের মাধ্যমে মীমাংসার কথা বললেও ছাত্রদল চড়াও হয় এবং অতর্কিত হামলা চালায়।
আহতদের পরিচয়
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- ছাত্রশিবির: সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার এবং মুরসালিন।
- ছাত্রদল: শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
উভয় সংগঠনের বক্তব্য
- ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক: অভিযোগ করেন যে ছাত্রদল কোনো কারণ ছাড়াই তাদের প্রদর্শনীতে বাধা দেয় এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে অতর্কিত হামলা চালায়। বহিরাগতদের নিয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে তারা তা প্রতিহত করেন।
- ছাত্রদল সভাপতি মো. ইয়ামিন: বলেন, প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল, যা শহীদদের চেতনার পরিপন্থী। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
- উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী: জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে এবং দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো ধরনের অশুভ তৎপরতা বা উসকানি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
- প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান: বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম: জানান, পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন এবং ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত