মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ লটারির টিকিট তথা জুয়া বিক্রির মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও থেমে নেই এই অসাধু চক্রের বেপরোয়া তৎপরতা। উল্টো স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে ক্যাডার বাহিনী নামিয়ে জোরপূর্বক টিকিট বিক্রি অব্যাহত রেখেছে আয়োজক চক্রটি।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চেংমারী এলাকা থেকে 'খোলাহাটি কুটিরশিল্প ও বাণিজ্য মেলা'র অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রি করার সময় ইউসুফ আলী (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। আটক ইউসুফ দিনাজপুর জেলার মুন্সিপাড়া তালপুকুর এলাকার ফয়জার রহমানের ছেলে।
পরে রাত সাড়ে আটটায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহাদাত হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জব্দকৃত টিকিট পুড়িয়ে ধ্বংস করেন এবং ইউসুফ আলীকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান। এর আগে একই দিন সকালে পৌর শহরের জামুবাড়ী সরদারপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম নামের আরেক টিকিট বিক্রেতাকেও একই অপরাধে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই দিনে দুই বিক্রেতার সাজা নিশ্চিত হওয়ার পর আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মেলা আয়োজক চক্রটি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে তোয়াক্কা না করে শহর থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত সিন্ডিকেটের লোকজন ক্যাডার বাহিনী নামিয়ে জোরপূর্বক টিকিট বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই জুয়া টিকিয়ে রাখার পেছনে বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, জনস্বার্থবিরোধী ও অবৈধ এই লটারি বা জুয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান কোনোভাবেই থামবে না। অপরাধী চক্রটিকে দমনে প্রশাসনের এ ধরনের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।