নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার নেহালী ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলে নদীভাঙন রোধে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চর বাগডোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শত শত বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গংগাচড়া উপজেলার নেহালী ইউনিয়নের কাচারিপাড়া, চর বাগডোহরা ও মিনাবাজার এলাকাগুলো তিস্তা নদীর অভ্যন্তরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি চরাঞ্চল। নদীর উভয় পার্শ্ব দিয়ে এর মূল প্রবাহ বিদ্যমান থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে কাচারিপাড়া থেকে মিনাবাজার পর্যন্ত চরের পশ্চিম পার্শ্বে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়।
এতে চর বাগডোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী থেকে মাত্র ৪৫ মিটার দূরে অবস্থান করায় চরম ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
জরুরি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ভাঙনঝুঁকি নিরসনে তাৎক্ষণিক ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বিদ্যালয়টি রক্ষার্থে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের আপদকালীন প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়টি ছাড়াও ২০টি পরিবার, একটি মসজিদ এবং বহু আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা পাবে।
এছাড়া, স্থানীয় বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা সুরক্ষায় কাচারিপাড়া এলাকায় ১০০ মিটার, চর বাগডোহরায় ১০০ মিটার এবং মিনাবাজার এলাকায় ১০০ মিটার— মোট ৩০০ মিটার জরুরি আপদকালীন প্রতিরক্ষামূলক কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
স্থানীয়দের স্বস্তি
জরুরি এই প্রতিরক্ষামূলক কাজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি বড় আতঙ্ক দূর হয়েছে।