বদরগঞ্জ প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এতিম ভাতিজার নির্মাণাধীন বাড়িঘর ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও চাচীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবারে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নাটারাম স্কুলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মনোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক দিনমজুর যুবক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, মৃত মজিবর রহমানের ছেলে ও ভ্যানচালক মনোয়ার হোসেন নিজের বাস্তুভিটায় পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে তাতে বাধা দেন তার আপন চাচা মুরসেদুল ইসলাম ও চাচী শায়না বেগম। মঙ্গলবার সকালে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে নির্মাণাধীন পাকা ঘরের দেয়াল ও ইটের গাঁথুনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
এ সময় মনোয়ার বাধা দিতে গেলে চাচী শায়না বেগম লাঠি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে মনোয়ারের মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। আহত মনোয়ারের বিধবা মা মনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই দেবর মুরসেদুল ও তার স্ত্রী তাদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন।
আহত মনোয়ারের স্ত্রী জেনিফা বেগম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা (ধারা ১০৭) করা হয়। তখন আসামিরা ভবিষ্যতে আর কোনো বাধা দেবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়ে জামিন নেন। কিন্তু জামিন নিয়ে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে তারা এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবে আসামিরা তাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে তাদের বাড়িতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। আহত মনোয়ারের পরিবার এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।