নিজস্ব প্রতিবেদক:
দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দেশের ঐতিহ্যবাহী দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি। সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশব্যাপী পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দলিল প্রতি ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত অনুমোদিত দলিল লেখক ব্যতিরেকে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক দলিল তৈরি বা মুসাবিদা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা। এছাড়া দলিল লেখকদের দীর্ঘদিনের নানামুখী দুর্ভোগ লাঘবে থানা ও জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে সরকারি খরচে মানসম্মত বসার ঘর ও নামাজের স্থান নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মক্কেল বা পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের সত্যতার ওপর ভিত্তি করেই দলিল প্রস্তুত করা হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে দলিল লেখকদের অযথা মামলার আসামি বা হয়রানি করা থেকে বিরত থাকার আইনি সুরক্ষা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ রোধে দলিল লেখক সমিতি স্থানীয় থানা ও জেলা কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদান এবং পেশার মানোন্নয়নে ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের জোরালো দাবি জানানো হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি রংপুর জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এই সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি রংপুর জেলার সমাবেশ-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব কাজী মো. ওবায়দুল হক।
এছাড়া সমাবেশে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইবনে হোসেন শিলু, রংপুর সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. সরোয়ার আজাদ, এবং রংপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিরুল ইসলাম সিজু। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখবেন রংপুর জেলার বিভিন্ন থানার দলিল লেখকবৃন্দ।