মো: আ: কুদ্দুস হোসাইন, বিশেষ প্রতিনিধি, রংপুর:
বৃষ্টির পানি নামতে শুরু করায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে গবাদিপশুর রোগবালাই, বিশেষ করে অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। চারণভূমি ও মাটির সংস্পর্শে গবাদিপশু আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই এবং সঠিক তদারকির অভাবে মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের প্রাদুর্ভাবে পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরসহ রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ৭৬ জনের বেশি সন্দেহভাজন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয় এবং পীরগাছায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সে সময় টিকাদান কার্যক্রম চালানো হলেও মাঠপর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পরিবেশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকে। মৃত পশুর সঠিক নিষ্পত্তি না হলে এবং আক্রান্ত পশুর চামড়া বা মাংসের সংস্পর্শে আসলে মানুষও সংক্রমিত হতে পারে।
বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানার অভাব ও অনিয়ম
মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর, জায়গীর ও বৈরাগীগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারের আশপাশে ও মহাসড়কের পাশে কোনো স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানা ছাড়াই গরু জবাই করা হচ্ছে। পশুর রক্ত ও বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না করায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও ২০২৬ সালের শুরু থেকে তা নিয়মিত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকের আর্থিক সুরক্ষা ও সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
অসুস্থ পশু জবাইয়ের প্রবণতা রোধ করতে হলে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন।
অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ৫টি বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা-
স্থানীয় প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বাজার কমিটির সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।