নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনদের মারপিট এবং নির্যাতনের ফলে দুই গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে মর্মান্তিক এ দুটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতদের স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে পৃথক দুটি বাড়িতে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
প্রথম ঘটনায় নিহত আয়সা সিদ্দিকার বাবা সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চার বছর আগে পাশের গ্রামের প্রবাসী মোশারফ হোসেনের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আয়সা জানতে পারেন যে তার ভাসুরের স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। বিষয়টি নিয়ে আয়সা প্রতিবাদ ও বাধা দিলে রবিবার গভীর রাতে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাকে ঘরের মধ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে আত্মহত্যার রূপ দিতে মরদেহ বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। এদিকে মেয়ের বাবা আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে মীমাংসার কথা বলে ফিরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, একই গ্রামে পৃথক আরেকটি ঘটনায় পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল আউয়াল খান তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা সাহিব উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাতক স্বামী আউয়াল খানসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।