মোঃ মাহবুবুর রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ রংপুর:
রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরের চাঁদকুঠি গ্রামে গত রবিবার রাতে এক গৃহবধূর সাথে ফুলবাবু নামের এক যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। তবে ঘটনার পরদিন সোমবার থানায় সমঝোতার মাধ্যমে আটক গৃহবধূকে মুক্ত করে উল্টো ভুক্তভোগী বাদী বানিয়ে যুবককে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে বদরগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে চাঁদকুঠি গ্রামে ওই গৃহবধূর বসতবাড়িতে আপত্তিকর অবস্থায় ফুলবাবুকে হাতেনাতে আটক করে গ্রামবাসী। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা গৃহবধূ ও ওই যুবককে একই রশিতে বেঁধে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখে। ঘটনার একাধিক ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সোমবার সারাদিন দুজনকে থানা হেফাজতে রাখার পর সন্ধ্যায় গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ওই যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালত চত্বরে আটক ফুলবাবুর বাবা মনজুরুল ইসলাম এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যদি ওই গৃহবধূ নির্দোষই হন, তবে কেন গ্রামবাসী দুজনকে একই রশিতে বেঁধে ভিডিও ভাইরাল করল? এটি একটি পরিকল্পিত ও সাজানো নাটক। থানা থেকে গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়ার সময় গ্রামবাসীর নীরবতাই প্রমাণ করে তারা এই চক্রান্তে জড়িত।"
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁদকুঠি এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গৃহবধূ নিজেই ফুলবাবুকে মোবাইলে ডেকে এনে আটকের নাটক সাজান এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। দরকষাকষিতে ছেলেপক্ষ রাজি না হওয়ায় পরে পুলিশ ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে থানায় লেনদেনের মাধ্যমে কৌশলে ওই গৃহবধূকে মামলার বাদী বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উক্ত গৃহবধূর বিরুদ্ধে এলাকায় ইতিপূর্বে এমন আরও অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনাটি গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) দ্বারা সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, আটক যুবকের নামে পূর্বে মামলা ছিল এবং নতুন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে আটক গৃহবধূকে একই মামলায় বাদী বানিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।