মোঃ শহিদুল ইসলাম, রংপুর:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য চিরকালীন অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহিদ আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি আবু সাঈদের পরিবারের নতুন ঘর নির্মাণ, তার মা-বাবার থাকার সুব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঘোষিত এই এক কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ জন্য দ্রুত নকশা তৈরির প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নামকরণ ইতোমধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের ক্যাটাগরিতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে, যার জন্য কোনো ধরনের তদবিরের প্রয়োজন হবে না।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতদের সম্মানীর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মোবাইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্মানী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার পাইলট প্রকল্প ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে। এছাড়া তরুণদের দক্ষ করে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তাও করছে সরকার।
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লংমার্চ করে সমস্যার সমাধান হয় না, সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।