নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুর মহানগরীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজে অনধিকার প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর, অফিসকক্ষ ভাঙচুর, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনতাই এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লায়ন্স ক্লাবের পরিচালক মো. ইনামুল হক সোহেল এবং লায়ন এ.কে.এম বানিউল আদম বাবু।
লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছিলেন। এ বিষয়ে আগেই মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এর জের ধরে গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাঠদান চলাকালে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জোরপূর্বক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক বাধা দিলে তাদেরকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আহত নিরাপত্তাকর্মীরা পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, একপর্যায়ে হামলাকারীরা ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত ক্লাবের অফিসকক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অফিসকক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা মূল্যের সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জাম ও হার্ডডিস্ক চুরি করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।
এ ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. ইনামুল হক সোহেল। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মঞ্জিল মুরাদ লাভলু, সেক্রেটারি আহসানুল হাবিব মিলন, ক্লাব পরিচালক শাহীন পারভেজ, লায়ন জেবুননেছা জেবীন, আইপিপি লায়ন অনিন্দ্য আউয়াল এবং লায়ন নাসরীন ববিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।