রবিন চৌধুরী রাসেল, রংপুর।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নে মাদকের অবাধ বিস্তারে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার ও লোকালয়ে সন্ধ্যার পর নিয়মিত বসছে মাদকের রমরমা আসর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মাদক কারবারের সাথে জড়িত রয়েছেন ময়েনপুর ইউনিয়নের (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য আজমেরী বেগম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় সুশীল সমাজ প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে।এলাকাবাসী জানান এর আগেও ওই নারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।
গত ১৯ অক্টোবর চুরির হাঁসের বিনিময়ে ইয়াবা প্রদান ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য আজমেরী বেগমের মাদক কারবারের অভিযোগে তথ্য অনুসন্ধান ও সংবাদ প্রকাশ করায় পেশাদার সংবাদকর্মী রাখিবুল হাসান রাখিবকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় জাগদীশপুর গ্রামে সংবাদকর্মী মো. রাখিবুল হাসান রাখিবের নিজ বসতবাড়ির সামনে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আজমেরী বেগম। মাদক ব্যবসা নিয়ে আর কোনো খবর প্রকাশ করলে ক্যামেরা ভেঙে ফেলা, হাত-পা কেটে ফেলা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৭০, তারিখ: ২২/১০/২০২৬) দায়ের করেছেন।
গত ১৯ অক্টোবর রাতে তিলকপাড়া গ্রামের ডা. ওমর ফারুকের খামার থেকে ১০টি হাঁস চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নয়ন নামের এক যুবক ইউপি সদস্য আজমেরীর কাছ থেকে চুরির হাঁসের বিনিময় ইয়াবা নিয়ে থাকেন। নয়নের কথা সূত্রধরে আজমেরির বাড়িতে অনুসন্ধান গিয়েছিলেন ভুক্তভোগী ওমর ফারুক। প্রথমে বিষয়টি আজমেরি অস্বীকার করেন কিন্তু পরবর্তীতে তার বাড়ির পাশে জবেহকৃত হাঁসের পাখা এবং উচ্ছিষ্ট অংশ পাওয়া গেলে পরে আজমেরি বিষয়টি স্বীকার করেন যে নয়নে কাছে থেকে হাঁস ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু হাঁস চুরি অভিযুক্ত নয়ন স্বীকার করেন মাদক কারবারি আজমেরির বাড়ি গিয়ে চুরির হাঁসের বিনিময়ে ইয়াবা নিয়ে থাকেন।
এ ঘটনায় ডা.ওমর ফারুক মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর গ্রাম পুলিশ ও মিঠাপুকুর থানা পুলিশের এএসআই জহুরুল আলমের নেতৃত্বে শুকুরের হাট বাজারে অভিযান চালিয়ে শিশির ও মিল্লাদ হোসেন নামের দুই ইয়াবাসেবীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, নারী মেম্বার আজমেরী বেগমের কাছ থেকেই তারা ইয়াবা ক্রয় করেছিল।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সংরক্ষিত নারী সদস্য আজমেরী বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী থানায় জিডি করেছেন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেই সাথে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।