মোঃ আল শাহরিয়ার জিম, রংপুর:
খাসজমির অধিকার ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের দাবিতে রংপুরে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।'
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম। প্রধান আলোচক ছিলেন শেখ নাসির উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক কনক রহমান।
সভাপতি কনক রহমান বলেন, ভূমিহীন মানুষ সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি ভূমিহীন মানুষের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ, বরাদ্দকৃত সুযোগ-সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ভূমিহীন মানুষের সমস্যা শুধু আবাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এর সঙ্গে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। তাই তাদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারকে গ্রহণ করতে হবে বলে জানান।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশের ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দিতে হবে। ভূমিহীন মানুষের আবাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রংপুর বিভাগের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং এখানকার ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা আবশ্যক। রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষগুলোও উন্নয়নের সুফল পায়। ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ভূমিহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ভূমিহীন মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান আলোচক শেখ নাসের উদ্দিন বলেন „ অসহায় ও ভূমিহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি ভূমিহীন মানুষের কল্যাণে সরকার, সামাজিক ও সাংগঠনিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের অধিকার, পুনর্বাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বক্তারা বলেন, সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ভূমিহীন মানুষের জন্য শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাদের বসবাসের জন্য নিরাপদ ঘর, জীবিকার সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে তারা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ভূমিহীন মানুষের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। তাদের বক্তব্যে নিরাপদ বাসস্থান, জমি, কর্মসংস্থান এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ভূমিহীন মানুষের অধিকার ও কল্যাণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।