নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুর নগরীর ব্যস্ততম খামার মোড় এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আবারও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। পূর্বঘোষণা ও বাধা-বিরোধকে উপেক্ষা করে জনদুর্ভোগ কমাতে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খামার মোড় এলাকার সড়কের দুই পাশ ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। এর ফলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে সাধারণ পথচারী এবং যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
এর আগে গতকাল একই এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে গেলে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান তীব্র প্রতিরোধ ও হট্টগোলের মুখে পড়ে। পূর্বঘোষণা ও উচ্ছেদ নোটিশ উপেক্ষা করে হকার ও ব্যবসায়ীদের একাংশ সংঘবদ্ধ হয়ে বাধা সৃষ্টি করলে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, খামার মোড়ের এসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়কারী একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি বাধা দেয়। যৌথ দলটি অবৈধ স্থাপনা ভাঙতে শুরু করলে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, স্লোগান দেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। এতে সংলগ্ন সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা দেয় এবং অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েন।
উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল— “বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া রুটি-রুজিতে এভাবে সরাসরি আঘাত মেনে নেওয়া যায় না।” তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, “বারবার সতর্ক করার পরও যারা ফুটপাত দখল করে মানুষের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ রেখেছেন, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গতকালের উত্তেজনার পর আজ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আবারও অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সড়কের ওপর গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, শেড ও অবৈধ স্থাপনা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিতে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরীকে যানজটমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। একই সাথে উচ্ছেদকৃত স্থানে যেন পুনরায় কেউ নতুন করে অবৈধ দখল বসাতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশন প্রশাসনের স্পষ্ট ঘোষণা—জনস্বার্থে দখল হওয়া ফুটপাত উদ্ধার করতে খুব শীঘ্রই আরও কঠোরভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।