
মোঃ আরিফুল ইসলাম, রংপুর:
ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে প্রতারণামূলক সম্পর্ক এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর অফিস স্টাফ (জারিকারক) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।
গত ২৮ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী রোকসানা আক্তার।
লিখিত বক্তব্যে রোকসানা আক্তার জানান, ২০২০ সালে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ কর্মরত জারিকারক মাসুদ রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে আমাদের কাবিননামা সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাবিননামায় মাসুদ রানা নিজেকে ‘প্রথম বিবাহ’ বলে উল্লেখ করেন। অথচ এর আগেই তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে যা সে আমার কাছে সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিল।”
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাসুদ রানা তার নিজের চলমান মামলার রায় পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সে রানিং একজন অফিস স্টাফ। আমার নিজের একটি মামলাও ওই ট্রাইব্যুনালে চলমান। সেই সূত্র ধরেই সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঘরে বউ-বাচ্চা থাকার পরও সে তা অস্বীকার করে। একজন আইন অঙ্গনের মানুষ হয়ে সে কীভাবে এমন কাজ করে? আমরা বিচার চাইতে আদালতে যাই, সেখানে গিয়েই যদি প্রতারিত হই তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গণমাধ্যমকে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি তাকে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেছি এটা সত্য। তবে বিয়ের কিছুদিন পর সংসারিক অশান্তির কারণে তাকে তালাক প্রদান করেছি।”
আইনজীবীরা বলছেন, বিবাহিত হয়েও তথ্য গোপন করে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে কাবিন করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন দণ্ডবিধির ৪১৭ ও ৪২০ ধারায় প্রতারণা এবং ৪৯৩ ধারায় প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে করার শামিল। এছাড়া একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে এ ধরনের নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রোকসানা আক্তার ও স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।