
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নমুনা পরীক্ষা করে তিন জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স রোগ শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সজিব মিয়া (২৩) কিছুদিন আগে একটি গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট গরুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই তিনি সেটি জবাই করেন এবং স্থানীয়দের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি ও বিক্রি করেন।
পরবর্তীতে ওই গরুর মাংস কাটা ও খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৫ সেপ্টেম্বর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি বিশেষ দল পীরগাছায় গিয়ে উপসর্গযুক্ত ওই ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়। পরীক্ষায় তাদের মধ্যে ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।
আক্রান্ত বাকি আটজনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়া অন্য দুই আক্রান্ত ব্যক্তি হলেন একই এলাকার আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)।
অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। তবে সেখানে অন্য কোনো গরুকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
সংক্রমণ বিস্তার রোধে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকার সব গবাদি পশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের কোনো ঝুঁকি নেই এবং আক্রান্ত তিনজনই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন; বেশিরভাগ রোগীর ক্ষত বা ঘা শুকিয়ে গেছে। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অসুস্থ গবাদি পশু জবাই ও মাংস বিক্রি ঠেকাতে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।