শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পীরগাছায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবেশীদের হামলা ও হুমকির অভিযোগ ​উৎসবের রঙে অসাম্প্রদায়িক ক্যানভাস: সদ্যপুস্কারিনীতে পূজামণ্ডপে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মমিনপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ​২ নং হরিদেবপুর ইউনিয়নে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজল ইসলাম (জর্দা) রাজশাহীতে প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে সদ্যপুস্কনীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রাসেল আহমেদ রাজ হরিদেবপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিসুর রহমান মাহমুদ রংপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের ফুলেল শুভেচ্ছা

দীর্ঘ ৬ বছরেও চালু হয়নি রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল: ৩১ কোটি টাকার ভবন ও যন্ত্রপাতি নষ্টের উপক্রম

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি রংপুরের বহুল কাঙ্ক্ষিত ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো আর চিকিৎসা সরঞ্জাম অলস পড়ে থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও জনবল সংকটের অজুহাতে চালু করা যাচ্ছে না সেবা কার্যক্রম। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের হাজার হাজার শিশু।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট মূল হাসপাতাল ভবন, ডাক্তার ও নার্সদের আবাসিক কোয়ার্টার এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সালের মার্চ মাসে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু এর পরপরই করোনা মহামারি শুরু হলে ভবনটিকে সাময়িকভাবে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আর পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু হয়নি এটি।

​চিঠি চালাচালি আর আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ:

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মধ্যে ১৫ বারেরও বেশি চিঠি চালাচালি হয়েছে। গঠন করা হয়েছে একাধিক কমিটি। এমনকি বিভিন্ন সময়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের মাঝামাঝিতেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত চালুর কথা বলা হলেও তা এখনো কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

​জনবল ও অর্থ বরাদ্দের সংকট:

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি (অর্গানোগ্রাম) এবং অর্থ বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। মাঝে নামমাত্র কিছু জনবল দিয়ে বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হলেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আইসিইউ ও আধুনিক সার্জারি ইউনিটসহ কোটি টাকার দামি যন্ত্রপাতি অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

​ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ:

রংপুর বিভাগীয় শহরে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ফি দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শিশুদের। অথচ কোটি টাকায় নির্মিত নিজস্ব সুসজ্জিত হাসপাতাল ভবন থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা ও উদাসীনতার কারণে তা কোনো কাজেই আসছে না।

​এ বিষয়ে সচেতন মহল ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা দ্রুত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে জনবল নিয়োগ ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী সচল করার মাধ্যমে অবিলম্বে রংপুর শিশু হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews