
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর মহানগরীর তাজহাট ও মিঠাপুকুর থানাধীন এলাকায় রাতের আঁধারে ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে অবৈধভাবে নদী ও সরকারি খাস জমির চর কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে জলাবদ্ধতা ও তীব্র পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা একটি লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসীর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ:
অভিযোগে প্রকাশ, এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি—আব্দুস সামাদ (খুদি খাওয়া), আনিসুর মিয়া, আনারুল মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, রবিউল ইসলাম, তৈয়বুর রহমান, রাসেল, সৈয়দ আলী, গোলাম মিয়া ও সুজন মিয়াসহ ২০-২৫ জনের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারা রাতের বেলা সরকারি খাস জমি ও নদীর চর কেটে ট্রাকযোগে অন্যত্র বিক্রি করছে।
সাধারণ মানুষ এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ জীবননাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগ:
অভিযোগে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা তাজহাট থানার এসআই মনজুরের সাথে যোগসাজশ করে গত ২১ এপ্রিল রাতে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। এভাবে প্রশাসনের একটি মহলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে দমনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জমি ও এলাকার বিবরণ:
তালুক তামপাট মৌজার (জে এল নং ১০৫৮, আর এস খতিয়ান নং ০১, এস এ দাগ নং ২৫১৩, ২৪১৪, ২৫১৫) প্রায় ৬ একর এবং মিঠাপুকুর থানার ইসলামপুর মৌজার (জে এল নং ১৬৮, আর এস খতিয়ান নং ০১, এস এ দাগ নং ২২১) প্রায় ৪ একর ৬১ শতক সরকারি খাস জমির চর ও বালু কাটা হচ্ছে। এছাড়া মহিগঞ্জ মেট্রোর হোসেন নগর ও আজিজুল্লা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমিও এই ধ্বংসযজ্ঞের আওতাভুক্ত। এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে অত্র অঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
এমতাবস্থায়, অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও চর কাটা বন্ধ করতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অনুলিপি আকারে ভূমি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার ও রিপোর্টার্স ক্লাবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।