
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে শিক্ষ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, তা বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, কাগজ, কালি ও ছাপাখানার গুণগত মানে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দেশীয় মুদ্রণশিল্পকে উৎসাহিত করতে এ বছর বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাপার কাজ দেওয়া হয়নি। সময়মতো মানসম্মত বই ছাপানোর প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও গতিশীল করতে মিড ডে মিল কর্মসূচি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কুপন দিয়ে নিজেদের পছন্দের খাবার ক্যান্টিন থেকে কিনতে পারবে। এছাড়া স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রথমে কয়েকটি জেলায় এবং পরবর্তীতে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন করা হবে, যেখানে তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন জানান, আগামীতে পরীক্ষার দুটি ভিন্ন সেট প্রশ্ন বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে মুদ্রণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে বর্ষাকালীন দুর্যোগ এড়িয়ে সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ ও খাতা পুনর্মূল্যায়নের নিয়মে বাস্তবমুখী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বাংলাদেশকে একটি ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের শাখা খুলতে চাইলে, সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করে অনুমোদন দেওয়া হবে।