
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
ইন্ডিয়া গেট যেমন দিল্লির প্রতীক, ফয়সাল মসজিদ যেমন ইসলামাবাদের প্রতীক, তেমনি নবনির্মিত ‘ভুট্টা চত্বর’ হবে উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটের মূল প্রতীক। শুক্রবার (২ অক্টোবর) লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ‘ভুট্টা চত্বর’-এর নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটের ব্র্যান্ডিং ফসলে পরিণত হয়েছে ভুট্টা। বর্তমানে এই জেলায় ভুট্টার চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভুট্টা এখন এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। ভুট্টা চাষে বদলে গেছে এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের জীবন, তাদের মুখে ফিরেছে হাসির ঝিলিক। কৃষকদের এই সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রকে ‘ভুট্টা চত্বর’ হিসেবে নামকরণের পাশাপাশি আইকনিক স্থাপত্যশৈলীতে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষির ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯১ সাল থেকে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার আবুল কাসেম প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভুট্টা চাষ শুরু করেছিলেন। সেসময় ভুট্টার ফলন কম হওয়ায় কৃষকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে গত তিন দশকে এখানকার কৃষিজীবী মানুষের দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় সব কৃষকই ভুট্টা চাষে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
লালমনিরহাটের মাটি ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানকার ফলন সন্তোষজনক এবং কৃষকেরা বাজারে ফসলের দামও বেশ ভালো পাচ্ছেন। ভুট্টাকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাটে এখন কৃষিভিত্তিক ছোট ছোট শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে, যা এই জনপদের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।