
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামতের জৈবিক নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষার মিল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসা এবং সিগারেটের ফিল্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে এসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা মেলানো হয়। পরীক্ষায় আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএর পূর্ণ মিল পাওয়া গেছে। এর ফলে হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির বিষয়ে অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণ যুক্ত হলো।
সংগৃহীত আলামত: ঘটনাস্থল থেকে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল পেপার, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর এবং নিহত শিশুর খাতার লেখাসহ ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল।
ফরেনসিক প্রক্রিয়া: গত ২০ সেপ্টেম্বর রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই আসামিকে ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে ডিএনএ স্যাম্পলিং করানো হয়।
আসামিদের স্বীকারোক্তি: এর আগে গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির তদন্ত ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে অব্যাহত রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার এই নতুন ফরেনসিক তথ্য মামলাটির বিচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।