
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে এক পৈশাচিক হামলা, মারপিট ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন একজন। বর্তমানে আসামিদের হুমকির মুখে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাতে উপজেলার খলোয়া ইউনিয়নের উত্তর খলোয়া সরদারপাড়া গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. আলী হোসেন ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়ির বাইরে যাতায়াতের জন্য ওই এলাকার একটি নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেই যাতায়াতের রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সেখানে বেড়া-খুঁটি ও ইট দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অতর্কিত হামলা ও নগদ টাকা লুট বৈঠকে উপস্থিত উভয় পক্ষের আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ ৫০,০০০ টাকা লুট করা হয়।
বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের মারপিটে বেশ কয়েকজন আহত হন।
একপর্যায়ে ছোট ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা ও কোপে গুরুতর আহত হয়ে আলী হোসেনের ছোট ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আলী হোসেন বাদী হয়ে গংগাচড়া মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। গংগাচড়া মডেল থানার মামলা নম্বর- ১৯, তারিখ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬; ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে এবং বর্তমানে তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে মূল আসামিরা এখনও বাইরে থাকায় এবং মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।