
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়।
সংসদে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে জামায়াত জোটের প্রার্থী বিজয়ী হতেন বলে মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ‘যদি সংস্কার হতো কর্নেল (অব.) অলি সাহেব নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনাটা সমজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য। আমরা সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ, যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।’
বেলা ১১টার পরে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ইসিতে আসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হবে, তারপরও জামায়াত জোট কী কারণে প্রার্থী দিল—এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এখানে জয়-পরাজয় বিষয় নয়। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরের রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যবস্থার নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা। এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদাসম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে তো গণতন্ত্র চর্চা হয় না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা্ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার হয়তো বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা তো নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাবনিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না; আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেইবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম। সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।
এইবার সেই সম্ভাবনা না থাকলেও জামায়াতের জোটের মনোনয়ন সংগ্রহ করার কারণ হিসেবে আযাদ বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতাটা করেছে সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়, জনগণের রায় বিএনপি বাস্তবায়ন করে নাই। সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত।
তিনি বলেন, এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাদের ভোটাধিকার দিয়ে তার অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি। সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটত।
১১ দলীয় ঐক্য জোটের এই নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে যে বাধা, মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, এটাকে আমরা উঠিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সংস্কার বাস্তবায়ন না করার প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এখানে সংসদ সদস্যগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী দিয়েছি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেত। তার সমান্তরাল কোনো প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভোটদান থেকে বিরত থাকলেও জামায়াত বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।