
মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জে তীব্র রোদ ও আচমকা বৃষ্টির ধকল থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং বদরগঞ্জ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী শহিদুল হক মানিক নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ছাতা বিতরণ শুরু করেছেন।
ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় বদরগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় এবং কালুপাড়া ইউনিয়নের মহদীপুর উচ্চ বিদ্যালয়, গুটিরডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, বৈরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বৈরামপুর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাতাগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এমন উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
উদ্যোগটির ভূয়সী প্রশংসা করে গুটিরডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাফুজার রহমান বলেন, “প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা ব্যাহত হতো এবং রোদ-বৃষ্টির কারণে তারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ত। চেয়ারম্যান মহোদয়ের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়বে এবং অভিভাবকরাও অনেকটা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকবেন।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আন্জুমান সুলতানা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ সহজ ও সুন্দর করতে জনপ্রতিনিধিদের এমন এগিয়ে আসা সত্যিই ইতিবাচক। রোদ-বৃষ্টির ধকল থেকে বাঁচতে ছাতা বিতরণের এই ছাত্রবান্ধব উদ্যোগ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজকে সবসময় স্বাগত জানাই।
নিজ উদ্যোগের বিষয়ে শহিদুল হক মানিক বলেন, শিক্ষার্থীরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বৈরী আবহাওয়ার কারণে নানা কষ্টে পড়ে, যা তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাদের এই কষ্ট লাঘব করতেই আমি এই কার্যক্রম শুরু করেছি। আমি সবসময় বদরগঞ্জবাসীর কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
ছাতা বিতরণ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক ও দূরদর্শী উদ্যোগে পুরো এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।