
নিয়মিত টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পরও সচেতনতার অভাব এবং নতুন করে টিকাদানের উপযুক্ত হওয়া শিশুদের একটি অংশের টিকা না পাওয়ার কারণে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দীর্ঘদিন নিয়মিত হামের টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ক্যাম্পেইন চলমান থাকলেও নতুন করে উপযোগী হওয়া এবং সচেতনতার অভাবে সময়মতো টিকা না পাওয়া শিশুরা টিকাবঞ্চিত থেকে যাওয়ায় তাদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন এনে বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি চক্র রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কৌশলে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এই চক্রটিকে নির্মূল করতে ডিজিএফআই, র্যাবসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে অভিযান চালাচ্ছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিসি ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে জেলাগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুয়া সনদধারী টেকনিশিয়ান ও অবৈধ চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিলগালা করা হচ্ছে এবং নিজে এই তালিকা সংগ্রহ করে অভিযান তদারকি করছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত এক মাসে ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন। এছাড়া তাঁর পরিদর্শনের পর সেবার মান, চিকিৎসকদের আচরণ এবং হাসপাতালের খাবারের মানও আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে রোগীরা তাঁকে জানিয়েছেন।
পরিদর্শন শেষে সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা আরও গতিশীল করতে হাসপাতালগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় সমস্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।