মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সংকটে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক মাসের মধ্যে রমেক হাসপাতালে আইসিইউ সংকট দূর হবে: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তারাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ওসির হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা, চলছে আর্থিক রফাদফার চেষ্টা লক্ষ্মীপুরে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: ফটোসেশনের রাজনীতি করি না, কাজ বাস্তবায়নে বিশ্বাসী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিলেট সফর: হাম প্রতিরোধে জোর ও দালালমুক্ত করার কড়া হুশিয়ারি চিলমারী নদী বন্দর এখন ফেরীশূন্য: একে একে সরিয়ে নেওয়া হলো তিনটি ফেরি সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ​বদরগঞ্জে রোদ-বৃষ্টি মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের ছাতা বিতরণ

দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ ও বাঁশের পাইলিং ধস: জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৮১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধ এবং ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

​বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

​জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সেতু রক্ষা বাঁধের ভাঙন পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।

​সরেজমিনে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিংটি ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধেও মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর শুরু হওয়া ভাঙন পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ীভাবে এই বাঁশের পাইলিং বসানো হয়েছিল। তবে সেই পাইলিং (স্পার) বসানোর ৬ মাস না যেতেই পানি বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কাতেই তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর পরপরই সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেখানে প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

​লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথম দিকেই ভাঙন দেখা দিলে যদি দুই-এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। গত বছর থেকেই বলা হচ্ছিল বরাদ্দ আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল, কিন্তু এটি টেকেনি। ১৪ লাখ টাকার কাজ পানির প্রথম ধাক্কাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।”

​এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, “গত বছর ভাঙন শুরু হলে এলজিইডির অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের এক ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তাদের সুপারিশ ও ডিজাইন অনুযায়ীই ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাঁশের পাইলিং (স্পার) বসানো হয়।”

​এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, তিনি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছেন। তদন্ত কমিটি বাকি বিষয়টি খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।

​রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews