শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পীরগাছায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবেশীদের হামলা ও হুমকির অভিযোগ ​উৎসবের রঙে অসাম্প্রদায়িক ক্যানভাস: সদ্যপুস্কারিনীতে পূজামণ্ডপে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মমিনপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ​২ নং হরিদেবপুর ইউনিয়নে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজল ইসলাম (জর্দা) রাজশাহীতে প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে সদ্যপুস্কনীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রাসেল আহমেদ রাজ হরিদেবপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিসুর রহমান মাহমুদ রংপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের ফুলেল শুভেচ্ছা

দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ ও বাঁশের পাইলিং ধস: জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধ এবং ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

​বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

​জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, সেতু রক্ষা বাঁধের ভাঙন পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।

​সরেজমিনে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিংটি ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধেও মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর শুরু হওয়া ভাঙন পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ীভাবে এই বাঁশের পাইলিং বসানো হয়েছিল। তবে সেই পাইলিং (স্পার) বসানোর ৬ মাস না যেতেই পানি বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কাতেই তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর পরপরই সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেখানে প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

​লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথম দিকেই ভাঙন দেখা দিলে যদি দুই-এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। গত বছর থেকেই বলা হচ্ছিল বরাদ্দ আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল, কিন্তু এটি টেকেনি। ১৪ লাখ টাকার কাজ পানির প্রথম ধাক্কাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।”

​এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, “গত বছর ভাঙন শুরু হলে এলজিইডির অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের এক ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তাদের সুপারিশ ও ডিজাইন অনুযায়ীই ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাঁশের পাইলিং (স্পার) বসানো হয়।”

​এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, তিনি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছেন। তদন্ত কমিটি বাকি বিষয়টি খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।

​রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews