
নুর জামাল হক, রংপুর :
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে হলের সামনে ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাত ১২টায় হলের ভেতর থেকে একযোগে স্লোগান দিয়ে বের হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় হলের অব্যবস্থাপনা ও প্রভোস্টের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগসমূহ:
মনগড়া নোটিশ ও অবহেলা: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রভোস্ট ম্যাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো যৌক্তিক দাবি বা সমস্যার কথা শোনেন না। উল্টো প্রায়শই মনগড়া ও অন্যায্য নোটিশ দিয়ে তাদের ওপর চাপিয়ে দেন।
ডাইনিং বন্ধ ও খাবার সংকট: হলের ডাইনিং বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। এমনকি গণরুমে মিল চালানো বাধ্যতামূলক করা হলেও সকালে শিক্ষার্থীদের চিড়া-মুড়ি খেয়ে থাকতে বলা হয়।
নামেমাত্র রিডিং রুম: শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য হলের রিডিং রুমটির অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। পুরো রুমে মাত্র তিনটি বেঞ্চ রয়েছে। এ ছাড়া রুমজুড়ে মশা আর আবর্জনার কারণে সেখানে বসার মতো কোনো পরিবেশ নেই।
বিক্ষোভ চলাকালীন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি, কষ্ট করতে নয়। ডাইনিং বন্ধ থাকলে আমরা খাবো কী? রিডিং রুমে বসার জায়গা নেই, মশার কামড়ে টেকা যায় না। আমাদের সমস্যার কথা বলতে গেলে প্রভোস্ট ম্যাম কোনো পাত্তাই দেন না। আমরা এই প্রভোস্টের দ্রুত পদত্যাগ চাই।”প্রশাসনের আশ্বাস: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।সার্বিক বিষয়ে প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “মেয়েদের হলে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, এটা সত্য। আমরা আগামীকালই প্রশাসনিকভাবে হলটি ভিজিট করব এবং যেগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়, সেগুলোর ব্যবস্থা নেব।”হিটার ও ডাইনিংয়ের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হিটার এবং ডাইনিং একসাথে চলতে পারবে না, এই কারিগরি বিষয়টির আমরা স্থায়ী সমাধান করব। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা হলে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এমন একজন যোগ্য প্রভোস্ট আমরা খুঁজছি। আশা করি দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে।”রিডিং রুমের বিষয়ে প্রক্টর জানান, আগামীকালই প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) নিয়ে রিডিং রুমটি পরিদর্শন করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রশাসনের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা হলের ভেতরে ফিরে যান। তবে দ্রুত দাবি আদায় না হলে আবারও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।