
মোঃ আরিফুল ইসলাম, রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের হরিদেবপুর থানাধীন চন্দন পাট ইউনিয়নের বাবুরহাট এলাকায় ইদানীং মাদক কেনাবেচার চিত্র ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এলাকায় একচেটিয়া মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে মোকছেদুল ও তার স্ত্রী মনিরা বেগম। ইয়াবা নামক এই মরণনেশার রমরমা বাণিজ্যের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে, যা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্প্রতি বাবুরহাটের এই চক্রটির মাদক বিক্রির একটি গোপন ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যায়, মনিরার কাছে মাদক কিনতে যাওয়া এক ক্রেতা ইয়াবা ট্যাবলেটের দাম ও সংখ্যা নিয়ে দরদাম করছেন।
ভিডিওর কথোপকথনে শোনা যায়, মনিরা বেগম প্রতি ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেটের দাম চাচ্ছেন ১৭০০ টাকা।
ক্রেতা টাকা একটু কমিয়ে রাখার অনুরোধ জানালে মনিরা সাফ জানিয়ে দেন, এর আগে ওই একই দামে তিনি ইয়াবা বিক্রি করেছেন এবং তার কমে দেওয়া সম্ভব নয়।
ভিডিওতে তাকে প্লাস্টিকের ছোট একটি প্যাকেট থেকে ট্যাবলেট গুনে ক্রেতার হাতে তুলে দিতে এবং বিনিময়ে টাকা বুঝে নিতে স্পষ্ট দেখা যায়।
বাবুরহাটের সাধারণ মানুষের মতে, এই দম্পতির মাদক ব্যবসার কারণে এলাকাটিতে প্রতিনিয়ত বহিরাগত ও মাদকাসক্তদের আনাগোনা বাড়ছে। মাদক কেনার টাকার জোগান দিতে গিয়ে স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক পরিবেশ, বিঘ্নিত হচ্ছে শান্তিশৃঙ্খলা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মোকছেদুল ও মনিরার এই অবৈধ ব্যবসার কথা সবাই জানলেও, তাদের ভয়ে কেউ সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এলাকাবাসীর দাবি, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং বাবুরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই মাদক ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা হরিদেবপুর থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই রাঘববোয়ালদের এখনই আইনের আওতায় না আনলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।