1. live@dainikuttarerkhobor.com : দৈনিক উত্তরের খবর : দৈনিক উত্তরের খবর
  2. info@www.dainikuttarerkhobor.com : দৈনিক উত্তরের খবর :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মিঠাপুকুরে পাইকান কৃষ্ণপুর বাঘের মোড় কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ​মরহুম রইচ আহম্মেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে রংপুর মহানগর বিএনপির দোয়া ও স্মরণ সভা ​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে রংপুরে আলোচনা সভা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার, ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু ​রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, কাপ্তাই সড়ক অবরোধ ​বিমানকে সুনামের জায়গায় নিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য: বিমানমন্ত্রী আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৫ হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ বিএসএফ ​রমেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে মারধর, জরুরি সেবা বন্ধ ও মহাসড়ক অবরোধ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ও পরিবেশ সুরক্ষা: বড় চ্যালেঞ্জ আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও দুর্নীতি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

​আজ রবিবার (৭ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), রংপুর-এর উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন: এখনই সময় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপের।”

​মানববন্ধনে টিআইবি কর্তৃক প্রকাশিত একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বর্তমান হারের অর্ধেকে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা ‘নেট জিরো’ বা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সুশাসনের অভাব, নীতিগত অস্পষ্টতা, আইনি সীমাবদ্ধতা এবং খাতভিত্তিক অনিয়ম ও দুর্নীতি।

​নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ

​টিআইবি জানায়, বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদিত বিদ্যুতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ৩০ শতাংশের বেশি হলেও বাংলাদেশে তা দীর্ঘ দিন ধরে মাত্র ৫ শতাংশের নিচে আটকে আছে। ২০২৫ সালে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করলেও বিশেষজ্ঞরা একে সময়োপযোগী ও সমন্বিত মনে করছেন না।

এই খাতের মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো হলো:

  • স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও লবিস্টদের প্রভাব: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্ট এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান এখনও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর রয়ে গেছে।
  • অযৌক্তিক শুল্ক ও প্রণোদনার অভাব: নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর আরোপ করা হয়েছে, যা এই খাতে বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করছে।
  • ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব: সৌর প্যানেলের মেয়াদ শেষে সোলার প্যানেল ব্যাটারিসহ অন্যান্য ‘ই-বর্জ্য’ কীভাবে নিষ্কাশন ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই।
  • স্বচ্ছতার ঘাটতি: field পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

​আইনি সীমাবদ্ধতা ও পরিবেশ আদালতের অকার্যকারিতা

​ধারণাপত্র অনুযায়ী, পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের আইনি কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। ২০২৪ সালের পরিবেশ সুরক্ষা দক্ষতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫তম, যেখানে ১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ২৮.১।

​সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে পরিবেশ আদালত আইন ২০১০-এ। এই আইন অনুযায়ী, কোনো ভুক্তভোগী নাগরিক সরাসরি পরিবেশ আদালতে মামলা করতে পারেন না। মামলা করতে হলে প্রথমে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শকের লিখিত রিপোর্টের প্রয়োজন হয়, যা বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

​ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থিত মাত্র দুটি পরিবেশ আদালতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর আওতায় মাত্র ৫৯২টি মামলা হয়েছে, যা সংঘটিত অপরাধের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। আইনের এই দুর্বলতার সুযোগে নদী-খাল-জলাভূমি দখল, পাহাড় কর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্লাস্টিক ও শিল্প-কারখানার বর্জ্য দূষণ অবাধে চলছে। শুধু বায়ুদূষণের কারণেই বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

​উত্তরণে টিআইবি’র ১১ দফা সুপারিশ

​এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে টিআইবি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে প্রধান সুপারিশগুলো হলো:

​১. জীবাশ্মভিত্তিক উৎস থেকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তরের জন্য একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা।

২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক, ভ্যাট ও কর হ্রাস করা এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

৩. পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ সংশোধন করে ভুক্তভোগী নাগরিক বা সংস্থাকে সরাসরি আদালতে মামলা করার সুযোগ দেওয়া।

৪. পরিবেশ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় প্লাস্টিক ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১’-এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

৫. প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় আইন ও নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা।

​পরিবেশ সুরক্ষায় কেবল দিবস উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশ আইনগুলোর কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট