
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সাত জেলায় টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আজ ১৫ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হালনাগাদ তথ্যে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে।
বন্যাকবলিত অঞ্চল ও ক্ষয়ক্ষতি:
বর্তমানে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলা বন্যাকবলিত রয়েছে। এসব জেলায় ৫৭টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। দুর্যোগে ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ৯টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ৪ হাজার ৭৯ জন মানুষ বর্তমানে ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
জেলাভিত্তিক প্রাণহানি ও আহত:
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রাণহানির শীর্ষে রয়েছে কক্সবাজার জেলা। সেখানে স্থানীয় ১৯ জন ও ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ৩২ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫), চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুজন ও খাগড়াছড়িতে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ত্রাণ তৎপরতা ও সরকারি বরাদ্দ:
দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজারে নগদ অর্থ, চাল ও ঢেউটিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে কক্সবাজারের জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের জন্য ৬৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ টন চাল এবং ৪৯ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কয়েক দফায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর জন্য মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলায় সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মাঠ পর্যায়ে বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।