বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুর সফরে আসছেন এমপি সাকিলা ফারজানা পুরোনো ইটের খোয়া ও কাদার ওপর গাইড ওয়াল: মিঠাপুকুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, উন্নয়ন নাকি অর্থের অপচয়? রংপুর খামার মোড়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান: চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বাধায় হট্টগোল, ফের অভিযানের হুংকার পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের রংপুরে দমদমা সড়ক দুর্ঘটনা: পঙ্গুত্বের যন্ত্রণায় ধুঁকছেন অসহায় রোকেয়া বেগম মধ্যপাড়ায় ‘কচি পাতার আসর’-এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট ​কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির এডহক কমিটির আহ্বায়ক হলেন মনিরুল হক প্রধান রংপুর সদরের হরিদেবপুর ইউনিয়নে আরআরএমইপি প্রকল্পের মহিলা কর্মী পদের লটারি সম্পন্ন রংপুরে ভূমিহীন আন্দোলনের সমাবেশ, খাসজমির অধিকার নিশ্চিতের দাবি কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির এডহক কমিটির সদস্য সচিব হলেন সেলিম চৌধুরী

পুরোনো ইটের খোয়া ও কাদার ওপর গাইড ওয়াল: মিঠাপুকুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, উন্নয়ন নাকি অর্থের অপচয়?

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288

মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, বিশেষ প্রতিনিধি:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়নের পায়রাবন্দ থেকে শালমারা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণকাজ ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের এই সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, গাইড ওয়াল নির্মাণে কারিগরি ত্রুটি এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, জনগণের অর্থে নির্মিত সড়কটি টেকসই হওয়ার বদলে ভবিষ্যতে চরম ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিলামকৃত পুরোনো ভবনের জরাজীর্ণ ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এই সড়ক নির্মাণে। রোলার চালানোর সাথে সাথে এসব খোয়া গুঁড়ো হয়ে বালু ও ধুলোয় পরিণত হচ্ছে।

একই সঙ্গে সড়কের পাশে পুকুর রক্ষায় নির্মিত গাইড ওয়াল নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, কোনো শক্ত বেজ বা প্রয়োজনীয় ভিত্তি ছাড়াই পুকুরের কাদার ওপর সরাসরি ইটের দেয়াল তোলা হচ্ছে। এমনকি দেয়ালের পিলারগুলোর মধ্যে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষাকালে পানির চাপ ও মাটির ক্ষয়ে যেকোনো মুহূর্তে গাইড ওয়ালটি ধসে পড়তে পারে।

কাজের নিম্নমান নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন ভাঙার খোয়া এনে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। রোলার দিলেই সেগুলো গুঁড়ো হয়ে যায়। সরকারি টাকায় কাজ হচ্ছে, অথচ এ রকম মানহীন কাজ দেখে আমরা হতাশ। এভাবে রাস্তা করলে কয়েক মাসও টিকবে না।”

একই উদ্বেগের কথা জানান অটোচালক মো. বেলাল মিয়া। তিনি বলেন, “কাদার ওপর গাইড ওয়াল তৈরি হচ্ছে, পিলারেও ফাঁকা। এটি কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। তার ওপর এক বছর ধরে কাজ চললেও শেষ হচ্ছে না। আমাদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে কাজের মান পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিক।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ এক বছর ধরে কাজ ঝুলিয়ে রাখলেও নির্মাণস্থলে প্রকল্পের বরাদ্দ, মেয়াদ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংবলিত কোনো বিলবোর্ড টাঙানো হয়নি। ফলে পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সড়ক নির্মাণে এলজিইডির তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগের সত্যতা ও কারিগরি মান বিচারে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। মানহীন উপকরণের বদলে টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews