
রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুরের হারাগাছে পৈত্রিক ও মাতৃ সম্পত্তি জবরদখল, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটপাটের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) দুপুরে রংপুর মহানগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ তরিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, হারাগাছ থানার সারাই হরিণটারী সর্দারপাড়া এলাকার মৃত সিকি মেয়ার ছেলে আজিরন রহমান (৫০), হেলাল মিয়া (২৫), দুলাল মিয়া (২৭) ও দুলাল মিয়ার স্ত্রী সুখতারা বেগম (২৫) দীর্ঘদিন ধরে তরিকুল ইসলামের ১১.৫০ শতাংশ পৈত্রিক ও মাতৃ সম্পত্তি জবরদখলের পাঁয়তারা করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার সময় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে বিবাদীরা তরিকুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার পিতা মোঃ আবু তালেব, স্ত্রী মোছাঃ মুক্তারা, গর্ভবতী কন্যা মোছাঃ বৃষ্টি আক্তার এবং জামাতা মোঃ আরিফ মিয়াকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হারাগাছ মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
তরিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৪ জুন রাত সাড়ে ১২টায় এবং ৫ জুন সকাল সাড়ে ৯টায় বিবাদীরা দলবল নিয়ে পুনরায় তার বাড়িতে দুই দফায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা টিনের গেট ও বেড়া ভাঙচুর করে আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৪ লাখ টাকা, ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার (যার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা) এবং ফ্রিজ, টিভি, ডোভিসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী হামলাকারী চক্রটি হারাগাছ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে তরিকুল ইসলামকে জোরপূর্বক ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দিতে বাধ্য করে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, এ ঘটনায় হারাগাছ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলা গ্রহণ করছে না, বরং নানা তালবাহানা করছে। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের নামেই মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে মামলা গ্রহণ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মাননীয় পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।