
মোঃ শহিদুল ইসলাম, রংপুর:
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষকের পৈত্রিক ভিটা দখল করার উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ভাঙচুর, মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই আপন জেঠাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় বাধা দিতে গেলে ওই শিক্ষককে চরম লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে জানা গেছে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৈত্রনাপাড়া (চেতনাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে রংপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাসরত শিক্ষক মোঃ এনামুল হকের সাথে তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে আপন জেঠাতো ভাইদের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ভুক্তভোগী শিক্ষক গ্রামে না থাকার সুযোগে গত ১২ জুন ২০২৬ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদী মোঃ এজাহারুল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান মিয়া এবং মোঃ মিজানুর রহমান—সকলের পিতা মৃত জাকারিয়া মন্ডল—একযোগে বেআইনিভাবে ওই পৈত্রিক ভিটায় অনাধিকার প্রবেশ করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীগণ দলবল নিয়ে শিক্ষক এনামুল হকের বসতভিটায় থাকা ২টি টিনের ঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। একই সাথে তারা সীমানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ৫/৬টি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে ওই শিক্ষকের আনুমানিক ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ঘটনার খবর পেয়ে শিক্ষক এনামুল হক রংপুর থেকে দ্রুত চৈত্রনাপাড়া গ্রামে পৌঁছান এবং ভাঙচুরের বিষয়ে বিবাদী ভাইদের কাছে জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীগণ প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে অকথ্য ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে তাঁকে গ্রাম ছাড়া করা সহ বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সময় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ নাজমুল হোসাইন ও মোছাঃ মর্জিনা বেগম সহ আশেপাশের অনেকেই এগিয়ে আসেন এবং বিষয়টি অবগত হন। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে ভুক্তভোগী শিক্ষক মোঃ এনামুল হক পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে আইনের আশ্রয় নেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।