শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
​উৎসবের রঙে অসাম্প্রদায়িক ক্যানভাস: সদ্যপুস্কারিনীতে পূজামণ্ডপে চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মমিনপুর ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ​২ নং হরিদেবপুর ইউনিয়নে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজল ইসলাম (জর্দা) রাজশাহীতে প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে সদ্যপুস্কনীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রাসেল আহমেদ রাজ হরিদেবপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিসুর রহমান মাহমুদ রংপুর রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের ফুলেল শুভেচ্ছা Curacao Casino Resort Hilton A Practical Travel Guide

বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরী নদী লুটের মহোৎসব: ২০টি পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে চলছে মাটি-বালু বিক্রি, হুমকির মুখে আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদরগঞ্জ (রংপুর):

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদী এখন একশ্রেণির প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নির্মম লুটপাটের শিকার। নদীর বুক চিড়ে ও তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এই অপকর্ম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনে ও রাতে অবাধে মাটি-বালু তুলে তা ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থানে চড়া দামে বিক্রি করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর বিভিন্ন জনপদ ও এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্পটে শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নদীগর্ভ ও তীর থেকে মাটি ও বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে ট্রাক্টর ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে সেই মাটি ও বালু বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

​ভাঙনের মুখে আবাদি জমি ও বসতভিটা

​নির্বিচারে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে যমুনেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের কষ্টার্জিত উর্বর জমিতেও ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী চক্রের লোকজনেরা সাধারণ কৃষক ও স্থানীয়দের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।

​ধূলাদূষণে বিপর্যস্ত জনজীবন ও নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

​দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মাটি ও বালু বহনকারী শত শত ভারী ট্রাক্টর এবং ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। অতিরিক্ত ওজনের এসব যানবাহনের চাপে গ্রামীণ পাকা সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া ট্রাক্টর চলাচলের সময় ওড়ার ধুলোবালিতে পথচারী ও আশপাশের বাড়ির লোকজনের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাতে ভারী যানবাহনের বিকট শব্দে শিশু ও বয়স্কদের ঘুম ও পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভূমিকা

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার মিলছে না। মাঝে মাঝে দায়সারাগোছের অভিযান পরিচালনা করা হলেও চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে অচিরেই নদীপারের বসতি ও ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।”

​পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন, নদী রক্ষা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে যমুনেশ্বরী নদীর ড্রেজারভিত্তিক এই অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। দ্রুত এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews