বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরী নদী লুটের মহোৎসব: ২০টি পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে চলছে মাটি-বালু বিক্রি, হুমকির মুখে আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন ও ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৩ মাসে ১,৬২৬ আসামি গ্রেফতার, মাদক ও চোরাই মাল উদ্ধার নতুন কুঁড়ির সেরা রংপুর: জাতীয় পর্যায়ে পদকপ্রাপ্ত কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা রংপুরে বিআরডিবি’র বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন এবং সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা ও প্রণোদনার চেক বিতরণ দৈনিক উত্তরের খবর-এর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ও গুণীজন সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রংপুরে ব্যাটারি চুরির অপবাদ দিয়ে দোকানদারকে বেধড়ক মারধর ও জখমের অভিযোগ মিঠাপুকুর পায়রাবন্দে চোরাই মোটরসাইকেলসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার রংপুরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোতে এফ.টি ও অফিস কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরী নদী লুটের মহোৎসব: ২০টি পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে চলছে মাটি-বালু বিক্রি, হুমকির মুখে আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদরগঞ্জ (রংপুর):

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদী এখন একশ্রেণির প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নির্মম লুটপাটের শিকার। নদীর বুক চিড়ে ও তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে এই অপকর্ম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনে ও রাতে অবাধে মাটি-বালু তুলে তা ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থানে চড়া দামে বিক্রি করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনেশ্বরী নদীর বিভিন্ন জনপদ ও এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্পটে শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নদীগর্ভ ও তীর থেকে মাটি ও বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে ট্রাক্টর ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে সেই মাটি ও বালু বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

ভাঙনের মুখে আবাদি জমি ও বসতভিটা

​নির্বিচারে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে যমুনেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকদের কষ্টার্জিত উর্বর জমিতেও ফাটল ধরে ধসে পড়ছে। প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী চক্রের লোকজনেরা সাধারণ কৃষক ও স্থানীয়দের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।

ধূলাদূষণে বিপর্যস্ত জনজীবন ও নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

​দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মাটি ও বালু বহনকারী শত শত ভারী ট্রাক্টর এবং ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। অতিরিক্ত ওজনের এসব যানবাহনের চাপে গ্রামীণ পাকা সড়কগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া ট্রাক্টর চলাচলের সময় ওড়ার ধুলোবালিতে পথচারী ও আশপাশের বাড়ির লোকজনের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাতে ভারী যানবাহনের বিকট শব্দে শিশু ও বয়স্কদের ঘুম ও পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভূমিকা

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েও কোনো স্থায়ী প্রতিকার মিলছে না। মাঝে মাঝে দায়সারাগোছের অভিযান পরিচালনা করা হলেও চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন যদি দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে অচিরেই নদীপারের বসতি ও ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।”

​পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল মনে করছেন, নদী রক্ষা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে যমুনেশ্বরী নদীর ড্রেজারভিত্তিক এই অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। দ্রুত এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews