বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
​রংপুর সদরে ইজিবাইক উল্টে কামার মকবুল হোসেন গুরুতর আহত রংপুরে খামার মোড়ে ফের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান: প্রশাসনের কঠোর হুশিয়ারি ও থমথমে পরিস্থিতি ​রংপুরের খামার মোড়ে ৪৫টি ক্ষুদ্র দোকান উচ্ছেদ না করে মানবিক সহায়তার আকুতি ব্যবসায়ীদের দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফরে আসছেন এমপি সাকিলা ফারজানা পুরোনো ইটের খোয়া ও কাদার ওপর গাইড ওয়াল: মিঠাপুকুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, উন্নয়ন নাকি অর্থের অপচয়? রংপুর খামার মোড়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান: চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বাধায় হট্টগোল, ফের অভিযানের হুংকার পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের রংপুরে দমদমা সড়ক দুর্ঘটনা: পঙ্গুত্বের যন্ত্রণায় ধুঁকছেন অসহায় রোকেয়া বেগম মধ্যপাড়ায় ‘কচি পাতার আসর’-এর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট

​রংপুরের খামার মোড়ে ৪৫টি ক্ষুদ্র দোকান উচ্ছেদ না করে মানবিক সহায়তার আকুতি ব্যবসায়ীদের

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের খামার মোড় এলাকায় নেসকোর (NESCO) সীমানার মধ্যে অবস্থিত ৪৫টি ক্ষুদ্র দোকান উচ্ছেদ না করে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই দাবি জানানো হয়। এ সময় উন্নয়ন ও যানজটমুক্ত শহর গড়ার পাশাপাশি অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করার আকুতি জানান তারা।

​প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খামার মোড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসান শাহরিয়ার। তিনি জানান, খামার মোড়ে তাদের নিজস্ব দোকানসহ প্রায় ৪৫টি ক্ষুদ্র দোকান রয়েছে। এসব দোকানের ওপর নির্ভর করে প্রায় ৪৫টি পরিবারের অন্তত আড়াইশ মানুষ জীবনযাপন করেন। বিশেষ করে এসব পরিবারে অনেক নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীও রয়েছেন; যাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো।

​ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকানগুলো মূল সড়ক বা ফুটপাতের জায়গায় নয়, বরং নেসকোর সীমানার ভেতরে অবস্থিত। সম্প্রতি রংপুরে একটি সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করার পর গত ২৯ অক্টোবর রাতেই ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে ফুটপাত ও রাস্তার পাশের খালি জায়গা থেকে মালামাল সরিয়ে নেন এবং জায়গা ফাঁকা করে দেন। পরবর্তীতে গত ৪ নভেম্বর সকালে নেসকোর ডিভিশন-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (তউপ্র) এবং নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্যবসায়ীরা। প্রকৌশলী মহোদয় তাদের জানান, দোকানগুলোর জন্য ব্যবহৃত সামান্য জায়গা ছেড়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে নেসকো কর্তৃপক্ষ আর কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

​ব্যবসায়ীদের ৫ দফা অঙ্গীকার:

উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী না হয়ে ব্যবসায়ীরা ৫ দফা অঙ্গীকার পেশ করেছেন—

১. খামার মোড়ের ফুটপাত ও সড়কের কোনো জায়গায় তারা অবৈধভাবে দখল করবেন না।

২. রাস্তা ও ফুটপাত সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখবেন।

৩. নেসকোর নির্ধারিত সীমানা ও নির্দেশনা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করবেন।

৪. প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নে দু’জন লোক নিয়োগ করবেন, যারা সার্বক্ষণিক রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং যানজট নিরসনে সহযোগিতা করবেন।

৫. প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সব বৈধ নির্দেশনা মেনে চলবেন।

​সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, তারা কোনোভাবেই উন্নয়নের বিরোধী নন এবং রংপুর শহর সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত হোক—তা তারাও চান। কিন্তু একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানান, একটি দোকান ভেঙে দেওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, বেঁচে থাকার অবলম্বন ও উপার্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।

​তাই রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্মানিত প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৪৫টি পরিবারের জীবিকা রক্ষায় মানবিক ও সদয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews