
মো: আ: কুদ্দুস হোসাইন, মিঠাপুকুর রংপুর:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক জননন্দিত চেয়ারম্যান এবং রংপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শহীদ মাহবুবুর রহমানের ৩য় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার আমীর আশাদুজ্জামান শিমুল এবং সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা গোলাম আযম।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে তরুণ লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লাবিব আহসান, ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাফেজ আব্দুস ছামাদ, সেক্রেটারি ডা. আব্দুস সামাদ, ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এবং রংপুর মডেল কলেজের অধ্যাপক হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ মাহবুবুর রহমানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করা এবং সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তিনি আজীবন মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর ত্যাগ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আলোচনা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও শাহাদাত কবুলিয়াতের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
এদিকে বাবার ৩য় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁর ছেলে লাবিব আহসান। বাবাকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “তিন বছর আগের আজকের রাতটিতেও আপনি পৃথিবীতে ছিলেন, হে শহীদ!” তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন, শেষ নামাজও আদায় করেছিলেন জামাতে এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের সেবা করে গেছেন।
তিনি আরও স্মরণ করেন, তাঁর বাবার জানাজা ছিল উত্তরাঞ্চলের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা। এমনকি বাবার শাহাদাতের খবর সহ্য করতে না পেরে তাঁরই হাতে গড়া এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে দুর্বৃত্তদের নৃশংস ধারালো অস্ত্রের হামলায় ৫৬ বছর বয়সে নিহত হন মাহবুবুর রহমান। পরদিন ৬ নভেম্বর বিকেল ৩টায় পায়রাবন্দ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্মরণকালের বিশাল জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও ছয় মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শহীদ মাহবুবুর রহমান ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ কর্মজীবনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহ-সভাপতি ও পায়রাবন্দ ইউপির সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।