
দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ একটি ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আঙ্কারা ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চার দেশীয় সফরের শেষ গন্তব্য হিসেবে হাকান ফিদান বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক heritage বা ঐতিহ্য সুরক্ষায় সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তুরস্কের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। একে মানবতার অভিন্ন ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। হাকান ফিদান জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানের ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেছেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিবিড় প্রচেষ্টা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ট্র্যাজেডি এখনো চলছে উল্লেখ করে হাকান ফিদান বলেন, ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সমগ্র মানবতার পক্ষে এক ‘ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ’ প্রদর্শন করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য তুরস্ক প্রতিবেশী দেশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে এবং এই সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এজেন্ডায় সচল রাখতে নিবিড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি দেখতে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট ও ‘সাহরা হাসপাতাল’ সহ বিভিন্ন তুর্কি সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ চলমান সংঘাত ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হাকান ফিদান বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বের সর্বত্র পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে তুরস্ক সক্রিয় সমর্থন দিচ্ছে বলে জানান। ইসরায়েলের আগ্রাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু সরকার দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান নস্যাৎ করতে পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। গাজায় গণহত্যা এবং লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও হামলার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বাংলাদেশকে অভিনন্দন ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে হাকান ফিদান বলেন, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধার এক বিশাল নিদর্শন এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তুরস্ক সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।