মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সংকটে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক মাসের মধ্যে রমেক হাসপাতালে আইসিইউ সংকট দূর হবে: ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তারাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ওসির হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা, চলছে আর্থিক রফাদফার চেষ্টা লক্ষ্মীপুরে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি: ফটোসেশনের রাজনীতি করি না, কাজ বাস্তবায়নে বিশ্বাসী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিলেট সফর: হাম প্রতিরোধে জোর ও দালালমুক্ত করার কড়া হুশিয়ারি চিলমারী নদী বন্দর এখন ফেরীশূন্য: একে একে সরিয়ে নেওয়া হলো তিনটি ফেরি সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ​বদরগঞ্জে রোদ-বৃষ্টি মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের ছাতা বিতরণ

গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধে ৩১ স্থানে ভাঙন ও গর্ত: আতঙ্কে পৌরবাসী

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ঘাঘট নদীর পানির চাপে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৩১টি স্থানে বড় ধরনের গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাঁধের অনেক স্থানে এখন মাত্র এক ফুট অংশ অবশিষ্ট রয়েছে, যা যেকোনো সময় ভেঙে জেলা সদরকে তলিয়ে দেওয়ার উপক্রম করেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ২০১৯ সালে একইভাবে বাঁধ ভেঙে গাইবান্ধা পৌর এলাকার কুঠিপাড়া, স্টেশন রোড, ডিবি রোড, কাচারি বাজারসহ শহরের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ও বালু ব্যবসায়ীরা ট্রাক্টর চলাচলের জন্য বাঁধের বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলায় বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নামমাত্র মেরামতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

​বাঁধসংলগ্ন বাসিন্দা সবুর মিয়া বলেন, “আমার বাড়ির পাশের বাঁধটি ভেঙে গেছে। ধসে পড়া মাটি ও বালুতে ঘরের বেড়া নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাতভর আতঙ্কে জেগে থাকি, কখন জানি বাঁধ ভেঙে সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়।”

​বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট নিলুফার ইয়াসমীন শিল্পী অভিযোগ করেন, “জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশ্বস্ত করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারাভাবে শুধু কয়েকটি ফাটলে বালুর বস্তা ফেলেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। আমরা স্থায়ী প্রতিকার চাই।”

​পৌর বিএনপির নেতা শহিদুজ্জামান শহীদ জানান, নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পর শহর রক্ষায় এই বাঁধটি নির্মাণ করা হলেও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা এখন মানুষের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

​এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, “শহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ করা হবে।”

​তবে নদী ও বাঁধ তীরবর্তী মানুষের দাবি, কেবল দায়সারা মেরামতে নয়, বরং প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসই সংস্কারের মাধ্যমেই গাইবান্ধা শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews