1. live@dainikuttarerkhobor.com : দৈনিক উত্তরের খবর : দৈনিক উত্তরের খবর
  2. info@www.dainikuttarerkhobor.com : দৈনিক উত্তরের খবর :
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নজিরের হাট প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন ‘বাংলার চোখ’ লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি কুড়িগ্রামে কালজানি নদীর তীব্র ভাঙন: গৃহহীন ৭০ পরিবার লিচু সংরক্ষণে দেশীয় প্রযুক্তির ‘হোম সলিউশন’ খোঁজা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিঠাপুকুরে বিষাক্ত মদ্যপানে আরও ২ জনের মৃত্যু, মোট নিহতের সংখ্যা ৫ ​আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: চরম অবহেলার প্রমাণ, কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বন্দর ও করিডোর নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে: ড. ইউনূস জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চাই: অধ্যাপক আলী রীয়াজ শিক্ষাঙ্গনে লাশের মিছিল আর দেখতে চায় না দেশবাসী : ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে কালজানি নদীর তীব্র ভাঙন: গৃহহীন ৭০ পরিবার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরজুড়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কেউ টিন খুলছেন, কেউ ঘরের খুঁটি উপড়ে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি।

স্থানীয়দের মতে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বেড়েছে। এর সঙ্গে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীতীরবর্তী মানুষকে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ভাঙনের শিকার তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।’

আরেক বাসিন্দা শাজাহান আলী বলেন, ‘দিনরাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’

কালজানির ভাঙনে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, ঘুম উড়েছে দুই গ্রামের মানুষের

কালজানি নদীর ভাঙন-কবলিত দীর্ঘ এলাকা।

মোজাফ্ফর আলী বলেন, ‘নদী আমাদের জমি খেয়েছে, এখন ঘরও খাচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙনের ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়। সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ চাই যাতে বারবার উদ্বাস্তু হতে না হয়।’

কাশেম উদ্দিনের আক্ষেপ, ‘এক জীবনে তিন-চারবার বাড়ি সরিয়েছি। আর কতবার সরাব? ঘর বাঁচাতে যা ছিল সব খরচ হয়ে গেছে।’

শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ বলেন, ‘উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন। গত তিন দিনে নদীভাঙনে সেখানকার অন্তত ৭০টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে, আরও অর্ধশতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হককে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট