
দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অনলাইন জুয়া এবং অবৈধ ডিজিটাল গেমিংয়ের প্রবণতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এমন কিছু চিত্র উঠে এসেছে যা চরম উদ্বেগজনক। এক একটি অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার বার ‘স্পিন’ বা বাজি ধরে লাখ লাখ টাকা ওড়ানোর ভয়ঙ্কর তথ্য মিলছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি সাধারণ স্ক্রিনে যখন ২,৫৬৭ বার স্পিন বা বাজি খেলার রেকর্ড দেখা যায়, তখন তার পেছনে লুকিয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন। ১ টাকা বা তার কম টাকা দিয়ে শুরু হলেও, ক্রমান্বয়ে এই নেশা বড় অংকের বাজিতে রূপ নেয়।
১. অর্থনৈতিক বিপর্যয়: প্রথম দিকে কম টাকা দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে যুবসমাজ জমি-জমা, জমানো টাকা এমনকি ধার-দেনা করে এই খেলায় লিপ্ত হচ্ছে।
২. অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি: জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক কলহের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে।
৩. তরুণ প্রজন্মের মেধা ধ্বংস: ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে এই জুয়ার পেছনে সময় দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে ছিটকে পড়ছে।
যদিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময় অবৈধ অনলাইন জুয়ার সাইট এবং অ্যাপস বন্ধে কাজ করছে, তবুও ভিপিএন (VPN) ও বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে এই চক্র সক্রিয় থাকছে।
পরিবেশ ও সমাজ সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপ দিয়ে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা। আপনার সন্তান বা পরিবারের কোনো সদস্য কম্পিউটারে বা মোবাইলে দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের কোনো সাইটে যুক্ত আছে কিনা, তা নিয়মিত নজরদারি করা এখন সময়ের দাবি।