
মোঃ শহিদুল ইসলাম, রংপুর:
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির ভেতরে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এক বাসা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও, ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন: গণপতি চক্রবর্তী (৬৫): রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০): গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী। আগামী চক্রবর্তী (২৮): তাঁদের মেয়ে। প্রিয়ম চক্রবর্তী (১৪): তাঁদের ছেলে এবং রংপুর জিলা স্কুলের ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোতলা বাড়িটির নিচতলা ফাঁকা থাকত এবং দ্বিতীয় তলায় ওই পরিবারটি বসবাস করত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে কয়েকজন যুবককে ওই বাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। পরে বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ভেতরে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
মরদেহগুলোর অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়, ঘরের খাটের নিচে পাওয়া যায় ছেলে প্রিয়মের মরদেহ। স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামীর মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে এবং শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ ছাদের এক কোণে পড়ে ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আলামত সংগ্রহের কাজ করছে।
রংপুর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবু হাসান কবির জানান, পুরো ভবনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা পরিকল্পিতভাবে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তদন্তের পর হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।