মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চিলমারীতে ছয় কোটি টাকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র চার বছরেও চালু হয়নি রংপুরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে মহানগর ছাত্রদল সদস্য সচিব রবিউল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন কুড়িগ্রামে শিক্ষার্থীদের মাঝে দশ হাজার কাঁঠাল গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘গ্রিন ইকো ফাউন্ডেশন’ ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বদরগঞ্জে চেক জালিয়াতি মামলায় সরকারি স্কুলের দপ্তরী সাদ্দাম গ্রেফতার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত রংপুরে সিআইএস-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্যোগ প্রশমন ও মগড্রিল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পাগলাপীর বাজারে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের তদারকি ও অভিযান রংপুরে ক্যাফে গ্রিনভ্যালি থেকে ম্যানেজারসহ ৫ জন আটক তারাগঞ্জে মার্কশিট তুলতে অতিরিক্ত ফি দাবির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থী ও স্বজনকে আটকে নির্যাতন

চিলমারীতে ছয় কোটি টাকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র চার বছরেও চালু হয়নি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চিলমারী (কুড়িগ্রাম):

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্রটি চার বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রটি অব্যবহৃত থাকায় ভেতরে থাকা কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কবে নাগাদ এটি চালু হবে কিংবা আদৌ চালু হবে কি না—তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ২০১৮ সালে জেলার চারটি উপজেলায় এ ধরনের কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় চিলমারীতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হয়। জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণসহ এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটিতে প্রয়োজনীয় উৎপাদনমুখী মেশিনপত্র স্থাপন করে বগুড়া আরডিএর কাছে হস্তান্তর করে।

​তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই অজ্ঞাত কারণে কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু গেট ও দুটি ছোট কক্ষে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া দুই পাহারাদার অবস্থান করছেন।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল ফটকে ঝুলছে বড় তালা। ভেতরে চুক্তিভিত্তিক পাহারাদার মো. রোকন মিয়া ও মশিউর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, পাহারা দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ বা তথ্য জানা নেই।

যা রয়েছে এই কেন্দ্রে:

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যেন এখান থেকে সব ধরনের সুবিধা পান, সেভাবে এটি সাজানো হয়েছে। এখানে ধান, গম ও সরিষা ভাঙানো, মসলা গুঁড়া, চিপস ও বেকারি পণ্য তৈরি, ফলের জুস ও দই উৎপাদন, এবং মাছ-মাংস সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রটি চালু হলে একজন উদ্যোক্তার মাধ্যমেই অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।

লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে:

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রগুলো লিজ দেওয়ার জন্য রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে ১৪ সদস্যের একটি জেলা উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, সমবায় ও বিআরডিবিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন। সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমবায়ভিত্তিক সমিতি, এনজিও বা আগ্রহী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে এটি লিজ দেওয়ার কথা রয়েছে।

​চিলমারী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোছা. উম্মে কুলছুম বলেন, এ প্রকল্প বা বিষয়ে তিনি অবগত নন।

​তবে রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, “কেন্দ্রটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে লিজ দেওয়া হবে। জেলা উপদেষ্টা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।” তবে সুনির্দিষ্টভাবে কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

​স্থানীয় কৃষকদের মতে, চিলমারী একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এই কেন্দ্রটি দ্রুত চালু হলে প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে কৃষিপণ্যের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews