
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য দুই আসামির নমুনা সিআইডিতে দেওয়া হবে। সেখানে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত রংপুরে ফিরিয়ে আনা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেসব আলামত এবং নিহত ব্যক্তিদের নমুনার সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতির সঙ্গে কোনো জৈবিক আলামতের সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে।
তদন্তের এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিএনএ পরীক্ষার ফল ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া জৈবিক আলামতের সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততা নিরূপণে জোরালো ভূমিকা রাখাবে। তবে পরীক্ষামূলক এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া এবং চূড়ান্ত ফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তীতে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।